কারসাজির ক্যামেরাবাজি
[যারা ক্যামেরাবাজি জানেন তারা কলম ধরতে বা কি-বোর্ড টিপতে নারাজ। অরূপ কামাল একমাত্র ব্যতিক্রম। তার কল্যাণে আমরা ক্যামেরার কিছু কারিশমা দেখছি সচলে। এস এম মাহবুব মুর্শেদও ক্যামেরাবাজির বয়ান ফরমাচ্ছেন - কিন্তু তার আগ্রহ বোধহয় পেশাজীবিদের বিশেষজ্ঞ করে তোলা। তাহলে আমার মত ম্যাংগো-পাব্লিক, যারা ক্যামেরার বোতাম খিঁচেই নিজের প্রতিভায় মুগ্ধ হয়ে যাই তারা কি আর সামনে আগাতে পারবো না? ইভা রহমানের মত আমাদেরও তো শখ-আহ্লাদ থাকতে পারে? মনের গোপন এরকম বাসনাকে প্রকাশ্যে ভাসানোর আশায় ব্লগানোর এই রাস্তায় নামলাম। সচলায়তন ভরা ক্যামেরাশিল্পীরা থাকতে আমাদের আর ভরসা (?) কই?
ক্যামেরাবাজির বিভিন্ন দিক নিয়ে যেসব পোস্ট হবে সেসব বিষয়ে নিজস্ব অভিজ্ঞতা আর টিপস্ জোগান দেবেন সচলায়তনের দক্ষ ক্যামেরাশিল্পীরা। আমরা যেসব ‘হোম ওয়ার্কের’ হালকা-পাতলা প্রতিযোগিতা করবো তার বিচারও করবেন তারা। বাইরের সাহায্যও আমরা নিচ্ছি। আয়োজনের প্রধান সহায়তায় থাকছে ‘ছবিপাড়া’। ছবির আলোচনায় ছবিপাড়ার সদস্যদের ছবি ব্যবহার করা হবে। ছবিপাড়ার সুপ্রিয় সদস্যরা তাদের মতামত, ও অভিজ্ঞতা থেকে পাওয়া নানা পরামর্শের টুকিটাকি দিয়ে আমাদের ঋদ্ধ করবেন। (ছবিপাড়ার সম্মানিত আগ্রহী সদস্যরা দয়া করে আমার সাথে ইমেইলে যোগাযোগ করুন)।
আন্তর্জাতিক সহায়তাও নিচ্ছি আমরা। প্রখ্যাত একটা ফোটোগ্রাফি ম্যাগাজিনের কোর্সের মাল-মসলাও ব্যবহার হবে এই আয়োজনে। ডিএসএলআর-এর ওপর একটা কোর্স আয়োজন শুরু করেছে ‘প্র্যাকটিক্যাল ফটোগ্রাফি’ নামের বৃটিশ ম্যাগাজিনটি। মূলত: এই কোর্সের অনুপ্রেরণাতেই সচলায়তনে বর্তমান আয়োজন। ম্যাগাজিনটি এই মাসে পঞ্চাশ বছরে পা রাখলো। বৃটিশরা যখন পঞ্চাশ বছর ধরে এদের চালু রেখেছে আমরা আর ক’মাস আস্থায় নিলে সমস্যা হবে না। এদের কোর্সটা ফ্রি। সুতরাং তাদের মাল-মশলা ব্যবহার করলে তারা মাইন্ড খাবে না বলে ধরে নেয়া যায়।
আরেকটা কথা, আমি কিন্তু এই কোর্সের শিক্ষার্থী। (সুতরাং প্রশ্নের জবাব দেয়ার মুরোদ আমার নাই। সেসব দেবেন সচলের বা ছবিপাড়ার ক্যামেরাশিল্পীরা।) জীবনে নানা বিষয়ের কর্মশালায় উঁকিঝুঁকি মারলেও ক্যামেরার ক্লাশে আমি কখনও ঢুকি নাই। টেকনিক্যাল বিষয়ে আমার একটা ভীতি ছিল। কিন্তু ক্রমে ক্রমে দেখছি টেকনিক ছাড়া সবই অচল। তবে যতটা সম্ভব যন্ত্রকৌশল না শিখেই ক্যামেরাবাজিকে কাবু করার চেষ্টা করবো আমরা, আমার মত ভীতুদের আশ্বাস দিচ্ছি।
মূল কোর্স যেহেতু ফ্রি সুতরাং সচলায়তনে এই ক্যামেরাবাজির পাঠচক্রেও কোনো ফি লাগছে না। তবে যারা চার মাসের এই কোর্স করতে ইচ্ছুক তারা প্রথমেই হাজিরা দিয়ে রাখেন। মাঝপথ থেকে কোনো যাত্রী নেয়া হবে না। এই যাত্রা বিরতিহীন।]
কিন্তু কেন?
দুনিয়াজোড়া সস্তায় মেলে অটোম্যাটিক ডিজিটাল ক্যামেরা। টিপলেই ঝকঝকা ছবি। তা’লে এইসব কোর্স করে হইবো টা কী? – এই প্রশ্নের জবাব নিজেরই খুঁজে নিতে হবে। আমার নিজের জবাব টা এইরকম:
ক্যামেরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে যে ছবি তোলে সেটা ব্যক্তিনিরপেক্ষ। যেই তুলুক, ছবি একরকম। তাতে শিল্পীর নিজস্ব কারিকুরি ধরা পরে না। সেরকম চোখ ধাঁধাঁনো ছবি তুলতে হলে নিয়ন্ত্রণটা যন্ত্রের হাত থেকে নিজের হাতে নিতে হয়। চমৎকার ছবির কারসাজিটা সেখানেই।
সোজা কথায়, যন্ত্র নিজে ঝকঝকা ছবি তুলে দেবে ঠিকই, কিন্তু নিজের ইচ্ছামতন যেখানে সেখানে আলো বাড়ানো/কমানো, রং বাড়ানো/কমানো ইত্যাকার কারসাজি না করতে পারলে আপনি কিয়ের ফটোগ্রাফার?
অতএব যারা অহেতুক ক্যামেরা কাঁধে ঝুলায়া বিয়াবাড়িতে ফ্লাশবাজি করেন তারা সময় থাকতে লাইনে খাঁড়ায়া পরেন। নাইলে পরে কিন্তু...
কী আছে?
কিছু তাত্ত্বিক আলোচনা থাকবে, তবে কীভাবে ভালো ছবি তোলা যায় সে নিয়ে বিশেষজ্ঞদের বয়ান পাওয়া যাবে।
প্র্যাকটিকাল ফটোগ্রাফির সৌজন্যে কিছু ভিডিও লিংক দেয়া হবে যা থেকে বিভিন্ন জরুরি বিষয়গুলো আমরা শিখবো।
ভালো ছবি কীভাবে চিনতে হয়, মানে সমালোচনা করাটা শিখবো। করবো নিজের ছবির সমালোচনা। বিখ্যাতরা বিশ্লেষণ করে দেখাবেন কেন তাদের তোলা ছবিটা তাদের এত প্রিয়।
থিম ভিত্তিক ছবি তোলার হোমওয়ার্ক থাকবে। এসব নিয়ে পেশাজীবিরা একটু আলোচনা করবেন, পথ দেখাবেন।
প্রশিক্ষণ শেষে যে বা যারা শ্রেষ্ঠ প্রশিক্ষণার্থী হিসেবে জয়মুকুট পড়বেন তাদের জন্য থাকছে বিশাল সব উৎসাহব্যঞ্জক পুরষ্কার – ক. মালয়েশিয়া বা লন্ডনে ছবি তোলার ছুটি উপলক্ষে থাকা-খাওয়া-ভ্রমণ-ছবি তোলার সহায়তা, খ. প্রকাশায়তন বা শুদ্ধস্বর কর্তৃক প্রকাশিত বইয়ের লেখকদের পোর্ট্রেট বা বইয়ের প্রচ্ছদের ছবি তোলার জন্য এ্যাসাইনমেন্ট। (মানে তারা হয়ে যাওয়ার বিরাট সুযোগ ;)
কী লাগবে?
কড়াকড়ি করে মানলে লাগবে একটা ডিজিটাল এসএলআর ক্যামেরা আর ফটোশপ সফট্ওয়ার।
যারা এখনই একটা ক্যামেরা কিনতে নারাজ তাদের জন্য হাতের কাছে যে ক্যামেরা রয়েছে সেটি এবং পিকাসো-৩ সফট্ওয়ার।
ডিজিটার এসএলআর ক্যামেরাগুলোকে দাম ও ব্যবহারের দিক থেকে তিনভাগে ভাগ করলে সস্তাগুলোর নাম হয় এন্ট্রি লেভেল ক্যামেরা। এ ধরনের ক্যামেরা হাজার ত্রিশেক টাকার মধ্যে পাওয়া যাবে। এরকম ক্যামেরা হচ্ছে ১. নাইকন ডি ৪০, ২. নাইকন ডি ৬০, ৩. ক্যানন ইওএস ১০০০ডি, ৪. সোনি আলফা ২০০, ৫. অলিম্পাস ই-৪২০ ইত্যাদি। স্যামসাং, ক্যাসিও, ফুজি ইত্যাদি কোম্পানিরও এন্ট্রি লেভেল ক্যামেরা আছে। যাদের টাকা বহুত তারা সেমি-প্রো লেভেলের ক্যামেরা কিনতে পারেন। আর যাদের প্রো-লেভেলের ক্যামেরা আছে তাদের এই পোস্ট পড়ার দরকার নাই – আপনারা আমাদের শ্রদ্ধেয় গুরুজন।
তবে ক্যামেরা নিয়ে বেশি খরচা-পাতি করার দরকার নাই। মনে রাখবেন যন্ত্রটা বড় কথা না, যন্ত্রটা ক্যাম্নে চালাবেন, কতটা ভালো চালাইতে পারেন সেইটা বড় কথা।
ক্যামেরা ছাড়া একটা শক্তপোক্ত আর পানির মত ঘাড় ঘুরানো যায় এমন একটা ট্রাইপড থাকা দরকার। রিফ্লেক্টর থাকাটাও জরুরি। এর সাথে যদি ফ্ল্যাশগান থাকে বা কিছু ফিল্টারও আপনার ব্যাগে থাকে তা’লে আপাতত: কোনো অসুবিধা নাই।
যাদের কাছে কমপ্যাক্ট ডিজিটাল ক্যামেরা আছে তারা দেখেন যে অটো ছাড়াও সেখানে আরো অনেক ফাংশন আছে। বিশেষ করে ম্যানুয়াল ফাংশনে গিয়ে দেখেন এপারচার বা আইএসও বদলানোর সুযোগও সেখানে আছে। ম্যানুয়ালি ফোকাসও করা যায়। আছে এক্সপোজার ব্র্যাকেটিং, মালটিপল ফ্রেম তোলার সুযোগসহ নানা সুবিধা। সবগুলো অপশন নিয়ে খেলা করে দেখুন। নিজেই অবাক হবেন যে যন্ত্রটার কত কিছু। উদাহরণস্বরূপ বলি, আমার নকিয়া-ই৭১ মোবাইলের ক্যামেরায় যত অপশন আছে তা জীবনে না দেইখাই পৃথিবীর বহু বড় বড় ক্যামেরাম্যান মারা গেছেন (অনুমানে কইলাম)। এইমাত্র খোঁচা দিয়া দেখলাম এর মধ্যে আছে এক্সপোজার কমপেনসেশন, ভিউফাইন্ডার গ্রিড, কালার টোনিং, হোয়াইট ব্যালেন্সসহ নানা কারসাজি করার বোতাম। সুতরাং নিজের হাতের লক্ষ্মীরে অবহেলা কইরেন না। একটু নাড়া-চাড়া কইরা দেখেন।
তো শুরু হয়ে যাক:
যন্ত্রপাতি কার কী আছে তার নাম-ধাম দিয়ে কী শিখতে চান এরকম একটা আওয়াজসহ নীচে হাজিরা দিয়ে দেন।
বড়ভাই/বস মানুষ যারা আছেন তারা দয়া করে ই-মেইল দিয়া আমাদের সাথে থাকার আওয়াজ দেন।
আপাতত: নীচের ওয়েলকাম ভিডিওটা দেখা যায় কিনা দেখেন:
No comments:
Post a Comment